Logo

চট্টগ্রামের ৫ পত্রিকার প্রকাশনা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

রিপোর্টার:
আপডেট : শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদন

ঈদের আগে পূর্ণাঙ্গ বেতন-বোনাসের দাবিতে মালিক-সম্পাদকের বাসা ঘেরাও কর্মসূচির পর চট্টগ্রামের পাঁচটি স্থানীয় দৈনিকের প্রকাশনা দুই দিন ধরে বন্ধ রয়েছে।

মালিক-সম্পাদকরা ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’ পত্রিকাগুলোর প্রকাশনা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে)।

দৈনিক আজাদী, দৈনিক পূর্বকোণ, দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশ, দৈনিক পূর্বদেশ ও দৈনিক বীর চট্টগ্রাম মঞ্চ বৃহস্পতি ও শুক্রবার প্রকাশিত হয়নি।
তবে দৈনিক কর্ণফুলী গত ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ আাছে।

করোনাভাইরাসের মহামারীর ধাক্কায় সংবাদপত্র শিল্প যখন বাজে সময় পার করছে, তখনই এ ঘটনা ঘটল।

করোনাভাইরাসের মহামারী রুখতে গত মার্চের শেষে সারা দেশে লকডাউনের বিধিনিষেধ শুরু হলে চট্টগ্রামে সংবাদপত্রের বিক্রি কমে যায় প্রায় ৯০ শতাংশ। মে মাসের শেষে বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার পর বিক্রি কিছুটা বাড়লেও ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি পত্রিকাগুলো।

এর মধ্যে কয়েকটি পত্রিকার মালিকপক্ষ কোরবানির ঈদে অর্ধেক বোনাস দিলে সংবাদকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। ঈদের আগে পুরো বেতন ও বোনাস দেওয়ার দাবিতে চট্টগ্রামের চারটি দৈনিকের মালিক-সম্পাদকের বাড়ি ঘেরাও কর্মসূচি দেয় সিইউজে।

এর অংশ হিসেবে বুধবার সকালে নগরীর খলিফাপট্টি এলাকায় দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেকের বাসভবন ঘেরাও করে সমাবেশ করা হয় সংগঠনটির পক্ষ থেকে।

বুধবার রাতে চট্টগ্রামের পাঁচটি দৈনিকে কাজ হলেও গভীর রাতে চট্টগ্রামের পত্রিকা মালিক-সম্পাদকদের সংগঠন চট্টগ্রাম নিউজ পেপার এলায়েন্স সিদ্ধান্ত নেয়, পরদিন বৃহস্পতিবার থেকে পত্রিকা প্রকাশিত হবে না।

এই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবারও চট্টগ্রামের ওই পাঁচটি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়নি।

বৃহস্পতিবার সকালে দৈনিক পূর্বকোণ ও বিকালে দৈনিক পূর্বদেশ সম্পাদকের বাসভবন ঘেরাও কর্মসূচি থাকলেও পত্রিকা প্রকাশ না হওয়ায় সে কর্মসূচি পালিত হয়নি।

শুক্রবার থেকে সংবাদপত্রে ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত পত্রিকা প্রকাশিত হবে না। এরপর কবে থেকে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক দৈনিকগুলো প্রকাশিত হবে সে সিদ্ধান্ত হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক গণ মাধ্যমকে বলেন, “সিইউজের পক্ষ থেকে আমার বাসা ঘেরাও কর্মসূচি দিয়েছে। বোনাসের দাবিতে সাংবাদিকদের এ ধরনের আন্দোলন কর্মসূচি এর আগে হয়েছে কি না সন্দেহ।”

বাসার সামনে ওই সমাবেশ থেকে কটূক্তি করা হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “আমার প্রতিষ্ঠানে কোনো গোলমাল থাকলে আমার সাথে কথা বলতে পারত। কিন্তু তা না করে ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে। সিইউজের আজাদী ইউনিটের সাথে কথা বলে বেতন বোনাস দেওয়া হয়েছে।”

এসব কারণে পত্রিকা প্রকাশ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে জানিয়ে এম এ মালেক বলেন, “অসম্মান নিয়ে পত্রিকা প্রকাশ করতে চাই না।”

দৈনিক পূর্বদেশের মালিক সম্পাদক মুজিবুর রহমান গণ মাধ্যমকে বলেন, সংগঠনের সিদ্ধান্তে অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রকাশনা বন্ধ রেখেছেন তারা।

কবে থেকে পত্রিকা প্রকাশ হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, কোরবানির ঈদের ছুটির পর এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।”

দৈনিক পূর্বকোণের প্রধান প্রতিবেদক নওশের আলী খান বলেন, কর্তৃপক্ষ কেন প্রকাশনা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কিছু জানানো হয়নি।

“পত্রিকা মালিকদের বাসা ঘেরাও কর্মসূচি থাকায় হয়ত এ সিদ্ধান্ত আসতে পারে। বুধবার রাতে কাজ হলেও পরদিন থেকে পত্রিকা আর প্রকাশ হয়নি।”

সিইউজের সাধারণ সম্পাদক ম. শামসুল ইসলাম বলেন, ঘোষণা ছাড়াই পত্রিকা প্রকাশনা বন্ধ রাখা ‘উচিত না’।

“আমরা পত্রিকায় কর্মরতদের পুরো বোনাসের দাবিতে আন্দোলন করেছি মাত্র। গত রোজার ঈদেও চট্টগ্রামের পত্রিকাগুলো পুরো বোনাস দেয়নি। পত্রিকাগুলোতে ঠিকমত ইনক্রিমেন্টও হয় না।

“এর আগে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে দাবি জানালেও মালিকপক্ষ তাতে ভ্রুক্ষেপ করেনি। সে কারণে আমরা কঠোর কর্মসূচিতে গিয়েছি। পত্রিকা প্রকাশনা বন্ধ করা মালিকপক্ষের অপকৌশলমাত্র।”

সংবাদকর্মীদের ন্যায্য পাওনা দ্রুত পরিশোধ করে পত্রিকা প্রকাশনা অব্যাহত রাখার জন্য মালিকপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের এই নেতা।

তিনি বলেন, ঈদের ছুটির পর সাংবাদিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সভা করে পরবর্তী কর্মসূচি দেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর দেখুন