Logo

কেন্দ্রীয় যুবলীগের কমিটি নিয়ে আবারও বিতর্ক!

রিপোর্টার:
আপডেট : বুধবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২০

তুহিনঃ বিশেষ প্রতিনিধি।

ক্যাসিনো, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির দুষ্টক্ষত সেরে নতুন করে পথচলা শুরু করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ। বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে ঢেলে সাজানো হয় শীর্ষ নেতৃত্ব। সংগঠনটির চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল নিজ নিজ পদে দায়িত্ব দেওয়ার পর কেটে গেছে প্রায় এক বছর। এই দীর্ঘ সময়ের পর অবশেষে ১৪ নভেম্বর, ২০২০ তথা গত শনিবার যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে কমিটির কিছু সদস্যদের নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।

কমিটি নিয়েই মূলত এ বিতর্কের সূত্রপাত। ২০১ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটি (ইসি) ও ২০০ সদস্যের জাতীয় কমিটি (সিসি) নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিনন্দনের পাশাপাশি নানা বিতর্কও উঠে এসেছে। সেখানে ইসি আর সিসি একাকার হয়ে গেছে। ৪০১ সদস্যের দুই কমিটিকে ‘বাংলালিংক’ কমিটি বলে আখ্যা দিয়েছেন অনেকে। দেখা গেছে, কমিটিতে বিএনপিসহ ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শের পরিবার থেকেও হয়েছে পদায়ন। একঝাঁক সাবেক ছাত্রনেতা স্থান পেয়েছেন। তবে আওয়ামী লীগের কমিটিতে আছেন, এমন লোকও যুবলীগের সিসি কমিটির সদস্য হয়েছেন। বাদ যায়নি নানা অভিযোগে ছাত্রলীগ থেকে বাদ পড়া বিতর্কিতরাও।

১৪ নভেম্বর, শনিবার প্রকাশ হয় যুবলীগের ২০১ সদস্যের কমিটির ১৮৫ জনের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে শেখ পরিবার, সাবেক যুবনেতা ও একঝাঁক সাবেক ছাত্রনেতা স্থান পেয়েছেন। এছাড়াও চারজন সংসদ সদস্য, পাঁচজন সাংবাদিক, ছয়জন চিকিৎসক ও কয়েকজন আইনজীবী নতুন কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন। যুবলীগের এ কমিটি অন্যান্য বারের তুলনায় ও অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের তুলনায় বেশ ভালো কমিটি হয়েছে বলে অভিমত বিশ্লেষকদের। খোদ যুবলীগের নেতারাও বলছেন, ‘অনেক সুন্দর ও স্মার্ট কমিটি হয়েছে।’

যুবলীগের মূল কমিটির (কার্যনির্বাহী) সঙ্গেই ২০০ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি (সিসি) প্রকাশ করা হয়েছে। এ নিয়ে নানা সমালোচনা ও ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। সিসি’র সদস্যকে কার্যনির্বাহী সদস্য বলে অভিনন্দনে ভাসাচ্ছে তার কর্মী সমর্থকরা। আবার কেউ কাউন্টার দিয়ে বলছেন, এটা ভুয়া। এ ছাড়াও একই সঙ্গে অভিনন্দনটি অনেকের জন্য বিব্রতকর হচ্ছে। যেমন বিরোধী দলে থাকাকালীন আন্দোলন-সংগ্রামের তুখোড় ছাত্রনেতা হয়েছেন ইসি কমিটির সদস্য, আবার সদ্য সাবেক একজন ছাত্রনেতা বা জেলা ইউনিট থেকে ওঠে আসা কেউ হয়েছেন সিসি’র সদস্য; দুজনকেই কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বলে ফেসবুকে ঝড় বইয়ে দিয়েছে অভিনন্দনের। বিষয়টি অনেকের কাছে আনন্দের হলেও প্রকৃত রাজনীতিকদের কাছে বিব্রতকর। কারণ, ইসি ও সিসি এক নয়। অভিযোগ উঠেছে, বিতর্কিতদের দেওয়া হয়েছে পদ। এছাড়াও কখনো কোনো পদ পদবীতে ছিল না অথবা আওয়ামী রাজনীতিতে সম্মুখে দেখা যায়নি এমন অনেকে পদ পেয়েছেন। পদ পেয়েছেন বিএনপির সঙ্গে সখ্যতা বা বিএনপি পরিবারের অনেকেই। এর মধ্যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের শরিক বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থের ভাই আশিকুর রহমান শান্ত’র পদায়ন নিয়েও আছে সমালোচনা।

রাজবাড়ির বালিয়াকান্দি উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদকের ছোটবোন ব্যারিস্টার চৌধুরী মৌসুমী ফাতেমার পদায়ন নিয়েও নানা সমালোচনা এসেছে। ২০০২ ও ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মইনুল রোডের বাসভবনে তার সঙ্গে মৌসুমীর একান্তে তোলা ছবিও ঘুরছে ফেসবুকে।

আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাওয়া বিএনপি পরিবারের সন্তান নিয়াজ মোর্শেদ এলিটের সদস্যপদ বাতিলের দাবি করেছেন এলিটের নিজ উপজেলা চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবীর চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক একেএম জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া। এছাড়াও মোয়াজ্জেম হোসেন, ডা. আওরঙ্গজেব, নাজমুল হোসেন জুয়েল, নূরে আলমসহ আরও অনেককে নিয়েও রয়েছে মুখরোচক আলোচনা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক হাবিবুর রহমান তারেক বলেন, কিছু সাবেক ছাত্রনেতাদের কমিটিতে দেওয়াকে সাধুবাদ জানাই। আমরা হতাশা হয়েছি কারণ সবসময় জাতির জনকের স্বপ্ন পূরনে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলমান উন্নয়নসহ বিএনপি-জামায়াতের সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মাঠে সোচ্চার থাকার পরও আমাদেরকে কমিটিতে স্হান দেওয়া হয়নি। কি সরকারী দল আর কি বিরোধী দল আমরাই জীবনের ঝুঁকি দিয়ে কাজ করি কিন্তু কমিটি গঠনের সময়ে নেতাদের বাসায় বাজার করে এমন লোকও কমিটিতে স্থান পায়, সেটা দলের জন্য ক্ষতিকর। সারাজীবন বিএনপি- জামায়াত করেছে এবং সুযোগসন্ধানী ছিল লোকও কমিটিতে স্থান পায় এ যেমন দুঃখজনক, তেমনি ধ্বংসাত্বক।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য আব্দুল্লাহ আল জোবায়ের হিমু বলেন, রাজনৈতিক সংগঠনের কমিটিতে সবাই কখনও সমানভাবে মূল্যায়িত হয় না। তবে ব্যক্তির সাথে পদের সামঞ্জস্য থাকা খুবই জরুরি। পদবীর সঙ্গে ব্যক্তিত্ব, ব্যক্তিত্বের সঙ্গে নেতৃত্ব, সংগঠনের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য। তিনি আরো বলেন, সদ্য ঘোষিত আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে এক ঝাঁক সাবেক ছাত্রনেতাকে স্থান দেওয়ায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। একই সাথে, ঘোষিত কমিটির যে সকল ব্যক্তিদের নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তদন্ত সাপেক্ষে তাদেরকে সংগঠন থেকে বাদ দিয়ে, যোগ্যদের নিয়ে সেই শূন্যস্থান পূরণ করলে আগামী দিনের যুবলীগ হবে আরো অনেক শক্তিশালী ও সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, কেন্দ্রীয় যুবলীগের কমিটি শুধুমাত্র ঢাকা বা বিশেষ কোন অঞ্চল কেন্দ্রিক হওয়া উচিত নয়। কেন্দ্রীয় যুবলীগের কমিটিতে সকল জেলার নেতৃত্বকে সমান ভাবে গুরুত্ব দেয়ার বিষয়ে কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের বিশেষ দৃষ্টি দেয়া উচিত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর দেখুন